যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে চীনের কাছ থেকে ৪০০টিরও বেশি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) সংগ্রহ করছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এসব অস্ত্রের প্রথম চালান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরানের হাতে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও চীনের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় ইরান ৩০০ থেকে ৪০০টি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ মডেলের ম্যানপ্যাডস সংগ্রহ করবে। এসব স্বল্প পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাঁধ থেকে নিক্ষেপ করা যায় এবং শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম।
রয়টার্সের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। যুদ্ধের সময় পর্যাপ্ত ও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৩ এপ্রিল ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে বলে দাবি করা হয়। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছিল।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, অস্ত্র ক্রয়ের জন্য ইরান হংকংভিত্তিক একটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরানি কর্তৃপক্ষ ও চীনা অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
তবে রয়টার্সের এই প্রতিবেদনের তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিং একে 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সেটিও ইসলামাবাদ নাকচ করে দিয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, এই অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।