ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

চব্বিশের যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

চব্বিশের যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের কল্যাণে পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে শহীদ পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পূর্ণ দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, চব্বিশের যোদ্ধারাও সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্যই লড়াই করেছেন। তার মতে, একাত্তর ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ আর চব্বিশ ছিল সেই অর্জিত স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। এই আন্দোলনের গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ বিভাগ খোলার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন, যার প্রধান কাজ হবে এই বীরদের দেখভাল করা।

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি এর আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনের সাথে জড়িতদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনা হবে। আন্দোলনে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানিকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আহত প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে অনেকেই অঙ্গহানি বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তাদের ত্যাগই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।

আহত ও শহীদ পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে তারেক রহমান দুই ধরনের পদক্ষেপের কথা জানান। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আহতদের সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান বা অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা করা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর ছিল না, বরং এটি ছিল অধিকারহারা সাধারণ মানুষের গণ-অভ্যুত্থান।

বক্তব্যের শেষে তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সার্থকতা। যদি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দেশ ব্যর্থ হয়, তবে কেবল শোকগাঁথাই রয়ে যাবে। তাই জনগণের রায়ে বিজয়ী হয়ে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।