এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বার ২০২৫, ০৫:৫৭ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

গাজা গণহত্যায় ৬৩টি রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত: আলবানিজ

গাজা গণহত্যায় ৬৩টি রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত: আলবানিজ

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি–সহ কয়েকটি প্রধান ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তাঁর দাবি, এই দেশগুলো গাজায় সংঘটিত গণহত্যায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত এবং তাদের সরকারি কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতে আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে পারে।

এক্সপার্ট উইটনেস পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি তাঁর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ‘গাজা গণহত্যা: একটি যৌথ অপরাধ’-এর নানা দিক তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তত ৬৩টি রাষ্ট্র এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত, যা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সহযোগিতা বা উৎসাহ দিয়ে থাকে। মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে গণহত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলো ইসরায়েলকে কূটনৈতিক ও সামরিক সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানান, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের সম্পৃক্ততা স্বীকার করতে এবং পরিস্থিতির ঝুঁকি মোকাবিলায় অবস্থান পরিষ্কার করতে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাজ্য এমন একটি রাষ্ট্র—যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইসরায়েলের গাজায় চালানো যুদ্ধকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামের ব্রিটিশ সংগঠনের ওপর দমন–পীড়নের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারের কঠোর অবস্থান গণহত্যায় ‘জড়িত থাকার পরিবেশ’ তৈরি করছে। তাঁর মতে, নাগরিক সমাজের কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা গণহত্যার তদন্তে যুক্ত সাংবাদিকদের পথে বাধা দেওয়া—এসবই ইসরায়েলকে সমর্থন জোগায় এবং দোষী রাষ্ট্রকে আরো বেপরোয়া করে তোলে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতর যৌথ উদ্যোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় জার্মানি ও ইতালির বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন আলবানিজ। তিনি বলেন, ইতিহাসের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও দুই দেশ আবারও ভুল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে জার্মানির অতীত বিবেচনায় গণহত্যা প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা আরও জোরালো হওয়া উচিত ছিল।

এদিকে গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর তিনি কার্যত দেশটিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। এমনকি তাঁর সম্পদও জব্দ করা হয়েছে। এর ফলে গত ২৮ অক্টোবর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সরাসরি নিজের প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারেননি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ হয়েও সদর দপ্তরে যেতে না পারা অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপের পর অন্য জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা এই নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানে নৃশংসতা তদন্তের কারণে আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর, তার ডেপুটি এবং বিচারকদের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। আলবানিজ এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘মাফিয়া–ধাঁচের ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করে আইসিসি কর্মকর্তাদের তদন্ত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার এই প্রচেষ্টার সামনে নতি স্বীকার করলে মানবাধিকারের সংগ্রাম আরও পিছিয়ে যাবে।