এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বার ২০২৫, ১১:৪৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধে ইসরায়েলকে তুরস্কের আহ্বান

গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধে ইসরায়েলকে তুরস্কের আহ্বান

তুরস্ক ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে বলেছে। সোমবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ আহ্বান জানান।

সেদিন ইস্তাম্বুলে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকরা এক বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স–আইএসএফ) গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে ফিদান বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রণীত পরিকল্পনায় নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। “তারা নিয়মিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় খাদ্য, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না গাজায় আবার গণহত্যা শুরু হোক। আমরা চাই যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকুক এবং একটি স্থায়ী দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি সমাধানের দিকে এগোনো হোক।” ফিদানের মতে, আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত ইসরায়েলের ওপর চাপ বজায় রাখা, কারণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী কাঠামোয় ফিলিস্তিনিদেরই শাসন ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতে হবে। তিনি যোগ করেন, তাঁর বক্তব্যটি বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর যৌথ অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ও সহায়তা অবরোধের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সময় এসেছে, যখন গাজায় পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে হামলা শুরু করেন, অভিযোগ তোলেন যে হামাস যে লাশ ইসরায়েলে ফিরিয়ে দিয়েছে তা যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে নির্ধারিত ১৩ বন্দির একজনের সঙ্গে মেলেনি। ঐ হামলায় একদিনে ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে ৪৬ জন শিশু।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজার প্রায় অর্ধেক পরিবার খাদ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি দেখেনি। উত্তর গাজায় মধ্য সেপ্টেম্বরের পর থেকে সরাসরি কোনো খাদ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। ১০ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে গড়ে প্রতিদিন মাত্র ১৪৫টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত সংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ।

এদিকে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় গাজায় নিরাপত্তা তদারকির জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আরব ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া এখনো এই বাহিনীর গঠন ও ক্ষমতা সম্পর্কে কিছুই স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র জানিয়েছেন, ইসরায়েল কোনো সশস্ত্র তুর্কি বাহিনীকে গাজায় গ্রহণ করবে না। ফলে আইএসএফ-এ কারা থাকবে এবং কারা থাকবে না—তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুও ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নিকট ভবিষ্যতে গাজার নিরাপত্তা ও এর চারপাশের নিরাপত্তা বলয়ের দায়িত্ব ইসরায়েলই রাখবে।”

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মিরোস্লাভ জাফিরভ বলেন, আইএসএফ কার্যকর করতে হলে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে খুব স্পষ্ট মানদণ্ড প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, “এই শান্তি পরিকল্পনার বহু দিক এখনো অনির্দিষ্ট রয়ে গেছে।”

ফিদান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিশ্রুতিতে অতিরিক্ত ভরসা করেছে। “ইসরায়েল কখনো এই সমাধান মেনে নেয়নি, বরং কখনোই তা গ্রহণের কোনো ইচ্ছাও দেখায়নি,” তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র: আল জাজিরা