এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৭:১৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

গাজায় অব্যাহত হামলায় হুমকির মুখে শান্তি পরিকল্পনা

গাজায় অব্যাহত হামলায় হুমকির মুখে শান্তি পরিকল্পনা

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ পর্যালোচনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের কূটনীতিকদের সঙ্গে মিয়ামিতে এক বৈঠকে মিলিত হন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েল ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান জানান, ইসরায়েলি পদক্ষেপের ফলে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এই বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো একমত পোষণ করেছে। গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিয়ামির এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং চার দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয় যে, গাজায় শান্তি ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। গাজার সরকারি তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল সাত শতাধিকবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। গত শুক্রবারও বাস্তুচ্যুতদের একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন, যার ফলে যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানিও ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলি লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্রুত পরবর্তী ধাপে যাওয়ার তাগিদ দেন। চুক্তির শর্তানুসারে, প্রথম ধাপে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তরের মতো কাজে অগ্রগতি হলেও দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের কথা রয়েছে।

অন্যদিকে ইস্তাম্বুলে হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হায়া এবং তুর্কি গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিনের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েলি উসকানি সত্ত্বেও তারা চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে শীতের প্রকোপ বাড়ায় গাজায় তাঁবু ও ত্রাণ সহায়তার তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে তারা জরুরি মানবিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছে এবং সম্প্রতি সেখান থেকে ৯৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।