এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:১৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

খাদ্য সহায়তা স্থায়ীভাবে বাতিলের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেলদের মামলা

খাদ্য সহায়তা স্থায়ীভাবে বাতিলের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেলদের মামলা

২২টি স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল (এজি) বুধবার নিউইয়র্কের লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)-এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, ইউএসডিএ গ্রিন কার্ডধারী বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা লাভকারী শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্তদের খাদ্য সহায়তা (ফুড স্ট্যাম্প বা SNAP) স্থায়ীভাবে বাতিল করার যে নির্দেশনা জারি করেছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।

ওরেগনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা এই মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই নির্দেশিকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘরোয়া নীতি বিলের পরিধির বাইরে চলে গেছে। এই নীতিতে কেবলমাত্র অভিবাসীদের বৈধ বসবাসের মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু ইউএসডিএ-র নতুন মেমোতে (যা ৩১ অক্টোবর জারি হয়) সুবিধাগুলো চিরতরে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "শিশু ও পরিবারের কাছ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়ার ফেডারেল সরকারের লজ্জাজনক এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইউএসডিএ-র কোনো অধিকার নেই যে তারা একটি গোষ্ঠীর নাগরিকদের খেয়ালখুশি মতো SNAP প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এই নতুন নির্দেশনার কারণে নিউইয়র্কের প্রায় ৩৫,০০০ নাগরিক সুবিধা হারাতে পারে। শুধু তাই নয়, যে স্টেটগুলো অবিলম্বে এই নির্দেশ মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউএসডিএ। লেটিশিয়া জেমসের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ককে অমান্য করার কারণে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হতে পারে। এদিকে, ইউএসডিএ-র একজন মুখপাত্র চলমান মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের গত বছরের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ২১ শতাংশ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো না কোনো সময়ে SNAP সুবিধা পেয়েছিলেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে এই হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। অ্যাটর্নি জেনারেলদের এই মামলা ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যৌথভাবে দায়ের করা হয়েছে। নিউইয়র্ক এবং ওরেগন ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, হাওয়াই, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি এবং ওয়াশিংটনসহ মোট ২১টি স্টেট ও ডিসি এই মামলায় যুক্ত হয়েছে। জানা যায়, এই মামলা দায়েরের আগে লেটিশিয়া জেমসসহ multistate গ্রুপের পক্ষ থেকে ইউএসডিএ-এর কাছে এই নির্দেশিকাটি স্পষ্ট করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।