নিউইয়র্কের কুইন্স ভিলেজে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে শ্রমে বাধ্য করা ও প্রায় ১৮ হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগে রিপন উদ্দিন (৩৯) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড জুরি। অভিযোগে বলা হয়েছে, রিপন ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি একজন অভিবাসন আইনজীবী নিয়োগ করবেন এবং এর জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ নেন।
কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০৮তম স্ট্রিটের বাসিন্দা রিপন উদ্দিনের বিরুদ্ধে শ্রম পাচার, বড় অঙ্কের চুরি, প্রতারণার ষড়যন্ত্র ও জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগে ২৩ অক্টোবর কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী ২০২১ সালে ছাত্রভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রথমে মিসৌরির একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করলেও পরে তিনি ম্যানহাটনের একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। সেখানে রিপন উদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং রিপন তাকে নিজের পরিচালিত অনলাইন ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি করান।
২০২২ সালে শিক্ষার্থী ফ্লোরিডায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন এবং অনলাইন ক্লাস চালিয়ে যান। এসময় রিপন তাকে আশ্বাস দেন যে, তিনি অভিবাসন সংক্রান্ত সাহায্যের ব্যবস্থা করবেন এবং এজন্য আইনজীবী নিয়োগ করবেন। শিক্ষার্থী সেই উদ্দেশ্যে রিপনকে মোট ১৮ হাজার ৯৪২ ডলার পাঠান।
এরপর রিপন শিক্ষার্থীকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ফিরে আসতে বলেন, দাবি করেন যে তার ‘ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউ ও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ হবে। ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থী রিপনের কুইন্স ভিলেজের বাড়িতে গেলে রিপন তাকে বাড়ি পাহারা দিতে বলেন এবং জানান, যদি সে সেখান থেকে বের হয়, তাহলে তার অভিবাসন আবেদন বাতিল হবে।
পরে শিক্ষার্থীকে ঘরের কাজ করতে, বিড়ালের যত্ন নিতে ও বেজমেন্টে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়। রিপন প্রায়ই রিমোট সিস্টেম ব্যবহার করে বাড়ির দরজা বন্ধ করে রাখতেন এবং একবার ঘর পরিষ্কার না করার কারণে শিক্ষার্থীকে চড় মারেন। ৩৩ দিন ধরে শিক্ষার্থী সেই বাড়িতে বন্দি ছিলেন। ইন্টারনেট না থাকায় তিনি অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারেননি, যা তার ভিসা স্থিতি ঝুঁকিতে ফেলে।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থী রিপনের কথিত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এমন কোনো মামলা বা ক্লায়েন্ট সম্পর্কে তার কিছুই জানা নেই।
কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি এক তরুণ শিক্ষার্থীর সরলতার সুযোগ নিয়েছেন, তার অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তাকে বন্দি করে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করিয়েছেন। এটি এক নৃশংস প্রতারণা ও মানব পাচারের উদাহরণ।”
বিচারক পিটার ভালোনে রিপন উদ্দিনকে আগামী ৯ ডিসেম্বর পুনরায় আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড হতে পারে।