এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বার ২০২৫, ০৭:০৯ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

কানাল স্ট্রিটে আইসের অভিযানের সময় নিরপেক্ষ ভূমিকায় এনওয়াইপিডি

কানাল স্ট্রিটে আইসের অভিযানের সময় নিরপেক্ষ ভূমিকায় এনওয়াইপিডি

নিউইয়র্ক সিটির কানাল স্ট্রিটে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) অভিযানে নামার আগেই এনওয়াইপিডি ও শহরের অন্যান্য কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ বিভাগ। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) এনওয়াইপিডির এক মুখপাত্র মার্কিন গণমাধ্যম পিক্স১১-কে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ অভিযানের আগে শহরের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কমিশনার স্পষ্ট করে জানান, এনওয়াইপিডি অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো অভিযানে অংশ নেবে না, তবে প্রয়োজনে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তায় প্রস্তুত থাকবে।

যেসব জনপ্রতিনিধি অভিযানের আগে অবগত ছিলেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন সিটি কাউন্সিল স্পিকার অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস, জননিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান ইউসুফ সালাম এবং অভিবাসন কমিটির চেয়ারম্যান আলেক্সা আভিলেস।

একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় এনওয়াইপিডিকে জানানো হয় যে, তারা আইসের কোনো অভিযানে অংশ নিতে বা সহায়তা করতে পারবে না। তবে একই সঙ্গে বিভাগটি সতর্ক করে দেয় যে, আইসের আইনগত অভিযানে বাধা দেওয়া ফেডারেল অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানীর মুখপাত্র জানান, কমিশনার টিশ পরিস্থিতিতে যথাযথভাবে কাজ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি হলে এনওয়াইপিডি একই অবস্থান নেবে—অর্থাৎ, অভিবাসন আইন প্রয়োগে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে কোনো সহযোগিতা করবে না।

গত ২১ অক্টোবর কানাল স্ট্রিটে অভিযান চালিয়ে অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এ সময় আইস কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যানের মতে, অভিযানের সময় চারজন মার্কিন নাগরিককেও আটক করা হয়, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, আইস কর্মকর্তারা নকল পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিলেন। তবে একদল বিক্ষোভকারী সহিংস আচরণ করে, পুলিশি কাজ ব্যাহত করে এবং যানবাহন অবরোধসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা চালায়।

নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেন, “যেসব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চায়, তাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার টার্গেট হওয়া উচিত নয়। এসব সংস্থার মনোযোগ থাকা উচিত সহিংস অপরাধীদের দমনে।”

এনওয়াইপিডির মুখপাত্র জানান, সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে ফেডারেল এজেন্ট ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে তাদের সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে, বিশেষ করে ২৬ ফেডারেল প্লাজায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।