এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি ও লাতিন আমেরিকায় চরম উত্তেজনা

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি ও লাতিন আমেরিকায় চরম উত্তেজনা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে কিউবার বর্তমান সরকারের পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন কড়া অবস্থানে পুরো লাতিন আমেরিকা জুড়ে এখন যুদ্ধাবস্থা ও চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলাকে অসুস্থ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, কলম্বিয়ার সরকার এমন এক ব্যক্তি চালাচ্ছেন যিনি কোকেন তৈরি এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচারে লিপ্ত। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, এটি একটি ভালো পদক্ষেপ হতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি ট্রাম্পকে মিথ্যা অপবাদ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, লাতিন দেশগুলোকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, অন্যথায় সবাইকে দাসে পরিণত হতে হবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রতিশোধ কোনো সমাধান নয়, বরং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর উচিত নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করা।

এদিকে গত শনিবার কারাকাসে মার্কিন বিশেষ অভিযানে মাদুরোকে আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এটি মাদক সন্ত্রাস দমনের একটি আইনি প্রক্রিয়া ছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের খনি নিয়ন্ত্রণে নিতেই এই অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছে। যদিও ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।

কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবা এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে না, কারণ দেশটি ভেতর থেকেই ভেঙে পড়ার জন্য প্রস্তুত। পাশাপাশি মেক্সিকো সরকারকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। মাদক পাচার রোধে মেক্সিকোকে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি দেশটিতে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্পের এই আধিপত্য বিস্তারের নীতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে। ব্রাজিল, চিলি, মেক্সিকো, উরুগুয়ে এবং স্পেন এক যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন এই সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বিপজ্জনক নজির হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প তার এই আগ্রাসী নীতির মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় বামপন্থী সরকারগুলোকে হটিয়ে নিজের পছন্দের মিত্রদের ক্ষমতায় বসাতে চাইছেন।

কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কফি, ফুল এবং খনিজ তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানগুলো স্থবির হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। আঞ্চলিক মেরুকরণের ফলে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট হতে পারে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব কমিয়ে চীন বা অন্য শক্তির পথ প্রশস্ত করবে। একইসাথে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলে বড় ধরনের শরণার্থী সংকট এবং বিদেশি বিনিয়োগে ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।