ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবার ২০২৫, ১২:০৮ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত

আট মাসের সংলাপের পর ঐকমত্যে ২৫ দল

ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত

দীর্ঘ আট মাসের সংলাপ, মতৈক্য ও আলোচনার পর অবশেষে স্বাক্ষরিত হলো ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সনদটি স্বাক্ষরিত হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করার পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চূড়ান্তভাবে দলিলটিতে স্বাক্ষর করেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ঘিরে দিনভর সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনা ও বিক্ষোভের কারণে এক মিশ্র পরিবেশ বিরাজ করে।

সংঘর্ষ ও উত্তেজনা

সনদ স্বাক্ষরের আগেই সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় তাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এতে আইনি স্বীকৃতির ঘাটতি রয়েছে।

 পরে তারা মূল মঞ্চের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা।

জরুরি সংশোধনী ও প্রতিশ্রুতি

পরিস্থিতি শান্ত করতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বিকেলে অঙ্গীকারনামার ৫ নম্বর দফা সংশোধন করে। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সংশোধিত দফায় ঘোষণা দেন—গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আহতদের আর্থিক সহায়তা এবং শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের আইনি দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দলগুলোর মধ্যে ছিল:

১. লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) – ড. রেদোয়ান আহমেদ ও ড. নেয়ামূল বশির

 ২. খেলাফত মজলিস – মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও ড. আহমদ আবদুল কাদের

 ৩. রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন – হাসনাত কাইয়ুম ও সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন

 ৪. আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) – মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

 ৫. নাগরিক ঐক্য – মাহমুদুর রহমান মান্না ও শহীদুল্লাহ কায়সার

 ৬. জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) – ববি হাজ্জাজ ও মোমিনুল আমিন

 ৭. বিএনপি – মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমেদ

 ৮. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস – মাওলানা ইউসুফ আশরাফ ও মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ

 ৯. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী – ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও মিয়া গোলাম পরওয়ার

 ১০. গণসংহতি আন্দোলন – জোনায়েদ সাকি ও আবুল হাসান রুবেল

 ১১. জেএসডি – শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ও মিসেস তানিয়া রব

 ১২. গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) – নুরুল হক নুর ও মো. রাশেদ খান

 ১৩. বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি – সাইফুল হক ও বহ্নিশিখা জামালী

 ১৪. জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট – ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান

 ১৫. ১২ দলীয় জোট – শাহাদাত হোসেন সেলিম

 ১৬. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ – অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও মাওলানা গাজী আতাউর রহমান

 ১৭. গণফোরাম – সুব্রত চৌধুরী ও ডা. মিজানুর রহমান

 ১৮. জাকের পার্টি – আলহাজ শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও জহিরুল হাসান শেখ

 ১৯. জাতীয় গণফ্রন্ট – আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস ও মঞ্জুরুল আরেফিন লিটু বিশ্বাস

 ২০. বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি – মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী ও মাওলানা মুসা বিন ইযহার

 ২১. বাংলাদেশ লেবার পার্টি – ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও খন্দকার মিরাজুল ইসলাম

 ২২. ভাসানী জনশক্তি পার্টি – শেখ রফিকুল ইসলাম (বাবলু) ও ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ (সেলিম)

 ২৩. জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ – মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী ও মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী

 ২৪. ইসলামী ঐক্যজোট – মাওলানা আব্দুল কাদের ও মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী

 ২৫. আমজনতার দল – কর্নেল মিয়া মশিউজ্জামান (অব.) ও মো. তারেক রহমান

এছাড়া শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান এবং শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা শামসী আরা বেগম।

ঐকমত্যের নতুন অধ্যায়

বিক্ষোভ ও মতপার্থক্য সত্ত্বেও ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর স্বাক্ষর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কমিশনের ভাষায়, এটি হবে “গণ-ঐক্য, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠার রূপরেখা।”