ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

এমপিদের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে: ডা. শফিকুর রহমান

এমপিদের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের সংসদে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ সদস্যরা দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা না করলে দেশ থেকে দুর্নীতি "কানে ধরে বিদায় নেবে"। তাঁর মতে, দুর্নীতির দায় শুধু আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী বা রাজনীতিবিদদের এককভাবে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবারই রয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের দায় স্বীকার না করলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই সম্ভব নয়। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এ লড়াইয়ে কেউ জড়িত থাকলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় ছাড় দেওয়া উচিত হবে না।

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সরকারি অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ব্যাংক, বীমা ও পুঁজিবাজারসহ সব খাতেই সমন্বিত সংস্কার প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আলাদাভাবে কোনো খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব নয়।

সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিরোধী দলের এমপিদের আসনে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি ও বিভেদ সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে তিনি সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন।

উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন বরাদ্দ রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের ন্যায্য অধিকার বিবেচনায় সুষমভাবে বণ্টিত হওয়া উচিত।

সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনায় ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদদের নামে নামকরণের সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নামফলক পরিবর্তনে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অপচয় হয়, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। ব্যক্তিগতভাবে কেউ জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করলে নিজের নামে নামকরণ করতে পারেন, তবে জনগণের অর্থে আত্মপ্রচার গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী ও নীতিমালা বাস্তবায়নে স্পিকারকে আরও দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের জন্য পর্যাপ্ত আলোচনা ও অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় সংসদে জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় হবে বলেও মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা ও নাজুক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ড্রেনের পানিতে তলিয়ে যায় এবং তা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। দূষিত পানি অনেক সময় সুপেয় পানির সরবরাহ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতা ও মানদণ্ডকে প্রাধান্য দেওয়ারও আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।