অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ ও মোবাইল বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর প্রকল্প চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে ১লা জানুয়ারি এই কার্যক্রম শুরুর দিনই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই নাশকতায় আনুমানিক দুই কোটি এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছে কমিশন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্দোলনকারীরা বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে ভবনের কাঁচের দেয়াল ও পার্কিংয়ে থাকা স্টাফ বাস ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৪৫ জনকে আটক করেছে। বিটিআরসি বলছে, মোবাইল ব্যবসার একটি অংশ এই সিস্টেম চালুর বিরোধিতা করে আসছিল এবং তাদের সাথে একাধিক বৈঠক হওয়া সত্ত্বেও এই হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এনইআইআর কার্যক্রমের প্রতিবাদে এবং আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোবাইল দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। ব্যবসায়ীদের দাবি, মোবাইল আমদানিতে করের হার কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করা এবং এনওসি প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা পণ্য বিক্রির জন্য সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিটিআরসি তা রক্ষা না করেই হঠাৎ এই পদ্ধতি চালু করেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কর সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবং গ্রেস পিরিয়ড না দিয়েই এনইআইআর চালু করায় অনেক গ্রাহকের ফোন বন্ধ হয়ে গেছে, যা বাজারে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভাঙচুরের ঘটনার সাথে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জড়িত নন দাবি করে এমবিসিবি জানিয়েছে, তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বর্তমানে বিটিআরসি ও ব্যবসায়ীদের এই মুখোমুখী অবস্থানে দেশের মোবাইল বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।