ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

একুশে পদক ২০২৬: প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা নিলেন গুণীজনরা

একুশে পদক ২০২৬: প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা নিলেন গুণীজনরা

জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে এই পদক তুলে দেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের সম্মাননা পদক, সনদ ও নির্দিষ্ট অর্থের চেক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের পদকপ্রাপ্তরা

এ বছর শিল্পকলা, শিক্ষা ও সমাজ জীবনের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য যারা এই মর্যাদাপূর্ণ পদক পেয়েছেন:

অভিনয়: কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা।

সংগীত (মরণোত্তর): গিটার জাদুকর ও আইয়ুব বাচ্চু।

ব্যান্ড সংগীত: দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’ (প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড হিসেবে)।

সাংবাদিকতা: প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান (আজীবন সাহসিকতার জন্য)।

স্থাপত্য: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।

চারুকলা: অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার।

নৃত্য: অর্থী আহমেদ।

পালাগানে: ইসলাম উদ্দিন পালাকার।

শিক্ষা: অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার।

ভাস্কর্য: তেজস হালদার জস।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পদকপ্রাপ্তদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "এই গুণীজনদের কাজের স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করবে। তাঁদের এই অবদান রাষ্ট্র সর্বদা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে।" উল্লেখ্য যে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মনোনীতদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বেশ কিছু নতুনত্ব ও তাৎপর্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো কোনো সংগীত ব্যান্ড হিসেবে ‘ওয়ারফেজ’-কে রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা প্রদান করা বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক ইতিহাসের জন্য একটি মাইলফলক। এছাড়া সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান এবং সংগীতে আইয়ুব বাচ্চুর (মরণোত্তর) স্বীকৃতি দীর্ঘদিনের জনদাবি ও সাংস্কৃতিক প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রবর্তিত এই পদক এবার কেবল ব্যক্তি নয়, বরং সমষ্টিগত সৃজনশীলতাকেও (ব্যান্ড) মূল্যায়নের আওতায় এনেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এক ইতিবাচক ইঙ্গিত।