ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বার ২০২৫, ১০:১৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

উদযাপিত হচ্ছে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন

উদযাপিত হচ্ছে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন

আজ ২৫ ডিসেম্বর, খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। প্রায় ২ হাজার ২৪ বছর আগে জেরুজালেমের বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে জন্ম নেওয়া যিশু খ্রিষ্টের আগমনের স্মৃতি স্মরণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি পালন করছে। গির্জা থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেল—সবই এখন বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত। ক্রিসমাস ট্রি, গোশালা এবং রঙিন বাতির ঝলকানিতে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পৃথক বাণীতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। দিনটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে এবং টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

সকাল থেকেই গির্জায় গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা বা খ্রিষ্টযোগের আয়োজন করা হয়েছে। যিশুর মূল শিক্ষা ছিল পাপীকে নয় বরং পাপকে ঘৃণা করা এবং শত্রুসহ সবাইকে ভালোবাসা। এই আদর্শকে ধারণ করেই বড়দিনের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন ভক্তরা। প্রতিটি বাড়িতেই থাকছে কেক, পিঠা, কমলালেবু ও উন্নতমানের খাবারের আয়োজন। আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলা আর ধর্মীয় গানের সুর উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা, কাকরাইলের রমনা সেইন্ট ম্যারিস ক্যাথিড্রাল ও মোহাম্মদপুরের সেইন্ট ক্রিস্টিনা গির্জা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। গির্জার বাইরে বসেছে মেলা, যেখানে ক্রিসমাস কার্ড, সান্তা ক্লজের টুপি ও নানা ধর্মীয় স্মারক বিক্রি হচ্ছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে সিসিটিভি নজরদারি, তল্লাশি এবং সাইবার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে বিশেষ কমান্ডো টিম।

নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগর এলাকায় আতশবাজি, পটকা ফোটানো এবং ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ করেছে। ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে ২৬ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সব মিলিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের এই পবিত্র দিনটি।