এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ইরান ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের বাধায় সিনেটে আটকে গেল ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিল

ইরান ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের বাধায় সিনেটে আটকে গেল ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল (এনডিএএ) সিনেটে নতুন বাধার মুখে পড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিলটি নিয়ে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক শুরুর প্রস্তাব ৫০-৪৬ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। ১০০ সদস্যের সিনেটে এ ধরনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রয়োজন ছিল অন্তত ৬০ ভোট। ফলে প্রায় ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত সামরিক বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশের অনুমোদন আপাতত অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করছে। তাদের দাবি, বিলের কয়েকটি ধারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক এবং গোয়েন্দা সহযোগিতাকে এমনভাবে সম্প্রসারণ করবে, যা ভবিষ্যতে কংগ্রেসের কার্যকর তদারকি দুর্বল করে দিতে পারে।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক স্কামার ভোটের আগে বলেন, বিলটি বর্তমান অবস্থায় পাস হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কার্যত একটি ‘অনুমতিপত্র’ হিসেবে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত বিলে পেন্টাগনে একজন বিশেষ সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ অস্ত্র গবেষণা ও উৎপাদন এবং সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়গুলো তদারকি করবেন। পাশাপাশি দুই দেশের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সমন্বয়ের ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা ইসরাইলের ব্যাপক নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি নাগরিক অধিকার, পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধবিরোধী সংগঠন বিলটির বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সরকারি অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপসংক্রান্ত সংশোধনীতে ভোটের সুযোগ নিশ্চিত না করে বিলটি এগিয়ে নেওয়া উচিত হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থান দলটির অভ্যন্তরে ইসরাইল নীতি নিয়ে পরিবর্তিত জনমতেরও প্রতিফলন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ইপসোসের জুন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল ৫৯ শতাংশ। চলতি বছরের মে মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে। এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানকে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে।