এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপে যেতে গিয়ে নিখোঁজ ১৪৩ শরণার্থী

ইউরোপে যেতে গিয়ে নিখোঁজ ১৪৩ শরণার্থী

ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন শতাধিক শরণার্থী। মৌরিতানিয়ার উপকূলে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৪৩ জন অভিবাসী ও শরণার্থী নিখোঁজ রয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) আশঙ্কা করছে, তাদের অধিকাংশই প্রাণ হারিয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউএনএইচসিআর জানায়, গাম্বিয়ার বাফুলোতো এলাকা থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকাটি দীর্ঘ ২৫ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর গত ১৮ জুলাই মৌরিতানিয়ার নুয়াদিবু বন্দরের কাছে পৌঁছায়। সেখানে উদ্ধারকারীরা নৌকাটি থেকে কয়েকটি মরদেহ এবং ৩৮ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করেন।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ম্যাট সল্টমার্শ জানান, ওই দুই শিশু যাত্রাপথেই তাদের পরিবারের সব সদস্যকে হারিয়েছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে মৌরিতানিয়ার উপকূলে তিনটি পৃথক উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে আটকে পড়া বিভিন্ন নৌকা থেকে মোট ৩৮৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ জুলাই মৌরিতানিয়ায় নোঙর করা আরেকটি নৌকায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিখোঁজদের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইউএনএইচসিআর।

অন্যদিকে, মৌরিতানিয়ার কোস্টগার্ড জানিয়েছে, নৌকাটিতে মোট ১৬০ জন যাত্রী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে ১২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রাপথে নৌকাটির জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইউএনএইচসিআর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জগামী আটলান্টিক সমুদ্রপথকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট হিসেবে উল্লেখ করেছে। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এবং সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী নৌযান ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর এ পথে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

মৌরিতানিয়া বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। প্রতি বছর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ উন্নত জীবনের আশায় এই পথ বেছে নেন।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত কঠোর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এ পথে অভিবাসীদের যাত্রার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। মৌরিতানিয়ার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী ও অনিয়মিত অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি না হলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বন্ধ করা কঠিন হবে।