ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কর নীতি বা ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিলের প্রভাবে ২০২৬ সালে মার্কিন নাগরিকরা ইতিহাসের বৃহত্তম ট্যাক্স রিফান্ড পেতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই আইনের ফলে আগামী বছরে সাধারণ করদাতাদের বড় অংকের অর্থ ফেরত পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির চেয়ারম্যান জেসন স্মিথ এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমটি হতে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্যাক্স রিফান্ড মৌসুম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত জুলাই মাসে বিলটি পাস হলেও অনেক চাকুরিজীবী তাদের আয়ের বিপরীতে কর কর্তনের হার পরিবর্তন করেননি। ফলে বছরের বাকি সময়ে তাদের বেতন থেকে অতিরিক্ত কর কেটে রাখা হয়েছে, যা আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে রিফান্ড হিসেবে ফেরত দেওয়া হবে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই রিফান্ডের পরিমাণ ১০০ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা পরিবার প্রতি গড়ে এক থেকে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে। পরবর্তী সময়ে বেতন থেকে কর কর্তনের হার সমন্বয় করা হলে সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি ব্যয়ের মতো নগদ অর্থের পরিমাণ বাড়বে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের কর কাঠামোতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চতর স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন, প্রবীণদের জন্য অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলারের কর ছাড় এবং বকশিশ বা টিপসের ওপর কোনো কর না থাকা। এছাড়া ওভারটাইম ভাতা এবং গাড়ির ঋণের সুদের ওপরও কর মওকুফ করা হয়েছে। তবে কর আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, রিফান্ড বড় হওয়ার অর্থ এই নয় যে মানুষের আয় বেড়েছে; বরং এটি আগে বেশি কেটে রাখা করের টাকা ফেরত পাওয়া মাত্র।
নতুন এই কর বিল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। নিরপেক্ষ বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিলের ফলে উচ্চ আয়ের মানুষ এবং বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের মতে, শীর্ষ ১০ শতাংশ আয়কারী পরিবারগুলো বছরে অতিরিক্ত ১২ হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারলেও দরিদ্রতম ১০ শতাংশ মানুষ বছরে গড়ে ১৬০০ ডলার হারাতে পারেন। এছাড়া এই বিলের প্রভাবে মেডিক্যেইড ও খাদ্য সহায়তার মতো সামাজিক সুবিধাগুলো সংকুচিত হতে পারে। ফলে সাধারণ করদাতাদের এখনই বড় রিফান্ডের আশায় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন আইনজীবীরা।