খেলাধুলা ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর সমর্থকদের মারামারি, আটক কয়েকজন

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর সমর্থকদের মারামারি, আটক কয়েকজন

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন সময় থেকেই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পাল্টাপাল্টি স্লোগান, বাকবিতণ্ডা এবং তীব্র সমর্থন গ্যালারির পরিবেশকে বেশ উত্তপ্ত করে তোলে। ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের উল্লাস আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কটূক্তি ও উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে।

শেষ বাঁশি বাজার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। স্টেডিয়ামের গ্যালারির বিভিন্ন অংশে এবং বাইরের চত্বরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং কয়েকজনকে আটক করে।

গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আহত ও আটক হওয়া ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

এই উত্তেজনা শুধু স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির কয়েকটি এলাকাতেও দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। একইভাবে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের কয়েকটি পাব ও সড়কে সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে উত্তেজনার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় আর্জেন্টিনার একাংশের সমর্থকদের দুয়ো দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ভিআইপি বক্সে উপস্থিত ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যামকে উদ্দেশ্য করে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে পাওয়া তার লাল কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রুপ করা হয়। মাঠের ভেতরেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কয়েকবার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়, যার প্রতিফলন দেখা যায় গ্যালারিতেও।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু দশকের পুরোনো। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর এই বৈরিতা নতুন মাত্রা পায়। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের প্রতিটি লড়াই তাই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এবারের সেমিফাইনালও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাঠের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর গ্যালারির সংঘর্ষ সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায় হয়ে থাকল।