ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দিয়েছে মেটা

আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দিয়েছে মেটা

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মুফতি আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার পর থেকে পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় কুষ্টিয়া অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাইবার দুনিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া শহর শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, মুফতি আমির হামজার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি বিশেষ মহল সুপরিকল্পিতভাবে এই সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই পেজটিতে সংঘবদ্ধভাবে ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক এবং গণহারে মিথ্যা রিপোর্টিং করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মেটা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে পেজটি সরিয়ে নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘন নয়, বরং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলেই এই ডিজিটাল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। তবে ফেসবুক থেকে পেজ সরালেও সাধারণ মানুষের মন থেকে আমির হামজাকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াত নেতারা।

জামায়াত সূত্র আরও জানিয়েছে, পেজটি পুনরুদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যেই মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পেজটি ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করে তারা সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে মূল পেজটি সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত কোনো ভুয়া আইডি বা গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীর এমন প্রচার মাধ্যম বন্ধ হয়ে যাওয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মুফতি আমির হামজার মতো একজন জনপ্রিয় বক্তার ক্ষেত্রে এই প্ল্যাটফর্মটি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম ছিল। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বা রাজনৈতিক উত্তাপের সময়ে এই ধরনের 'ম্যাস রিপোর্টিং' বা 'সাইবার বুলিং' এর মাধ্যমে কোনো পেজ ডাউন করে দেওয়া ডিজিটাল রাজনীতির একটি নোংরা কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেটা বা ফেসবুকের অ্যালগরিদম অনেক সময় রোবোটিক পদ্ধতিতে কাজ করে, ফলে বিপুল সংখ্যক রিপোর্ট জমা পড়লে প্রাথমিক যাচাই ছাড়াই পেজটি স্থগিত হতে পারে। এই ঘটনাটি কেবল একজন প্রার্থীর প্রচারণাকেই বাধাগ্রস্ত করেনি, বরং এটি সাইবার নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ডিজিটাল ময়দানে কুপোকাত করতে এই ধরনের অপচেষ্টা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ। যদি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত পেজটি পুনরুদ্ধার না হয়, তবে এটি নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।