খেলাধুলা ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৯:৫৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া

আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া

দীর্ঘ তিন সপ্তাহের ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। গত ২০ দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৫ লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের সীমান্তে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রাণঘাতী সংঘাত।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নাথফোন নাকফানিট এবং কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী টি সিহা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে উভয় দেশ বর্তমানে সীমান্তে মোতায়েন করা সেনাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখতে একমত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় নতুন করে কোনো সেনা সমাগম বা উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা চালানো যাবে না। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাসহ বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সীমান্ত বিরোধের ফলে বিশেষ করে কম্বোডিয়ার অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছিল। কয়েক দফা ব্যর্থ আলোচনার পর অবশেষে দুই দেশ অস্ত্র বিরতিতে সম্মত হওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষদের ঘরে ফেরার পথ প্রশস্ত হলো। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শান্তি কতটুকু দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নির্ভর করবে বিতর্কিত সীমান্ত রেখা নিয়ে স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের ওপর। আপাতত উভয় দেশের সামরিক কমান্ড নিজ নিজ বাহিনীকে শান্ত থাকার এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা।