২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটিকে সমর্থন করা নৌকা ভোটারদের দিকে নজর দিয়েছে অন্যান্য দল। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাঠ পর্যায়ে সমর্থন আদায়ে সক্রিয় হয়ে কৌশল পরিবর্তন করছে। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না এলে তাদের ভোটব্যাংকই ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
গোপালগঞ্জকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি ধরা হলেও এবারের সম্ভাব্য পরিস্থিতি ভিন্ন। জেলার তিনটি আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঠিক করেছে এবং নৌকা ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। গোপালগঞ্জ-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আইনজীবী আজমল হোসেন সরদার বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভিত্তির সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত মামলা ও হয়রানিতে জড়িতদের সহায়তা করাও তাদের কৌশলের অংশ।
বিএনপিও একইভাবে নৌকা ভোটের প্রতি স্পষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছে। গোপালগঞ্জ-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী কে এম বাবর মনে করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না এলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভোটারদের বড় অংশ ধানের শীষে ভোট দেবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিশোধের রাজনীতিতে জড়াবে না।
জামায়াতের বক্তব্যে বিএনপির দিকে ইঙ্গিত থাকা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতাদের দাবি, রাজনৈতিক হয়রানি বা মামলায় তাদের সম্পৃক্ততা নেই। তবে মাঠ পর্যায়ে জামায়াত ও বিএনপি সক্রিয় থাকলেও এনসিপির প্রার্থী গোপালগঞ্জ-২ এ এখনো তেমন প্রচারে নেই।
এনসিপি মনে করে এককভাবে আওয়ামী লীগের ভোট কোনো দলের পক্ষে যাবে না; স্থানভেদে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় ভোটদাতার মনোভাবই ফল নির্ধারণ করবে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ভোটের বাস্তবতায় বড় ভূমিকা রাখবে।
জামায়াত সরাসরি নৌকা ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে সক্রিয়। সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের অপরাধের সম্পর্ক নেই, তাই ভোটাররা নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে। তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বী উভয় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে বলছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোষ্ঠী নয়, বরং জাতীয়ভাবে সবার জন্য রাজনীতি করছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের সার্বিক স্বার্থই তাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু, এবং সংখ্যালঘুরাও স্থানীয়ভাবে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন বর্জন বা অংশগ্রহণ–যে সিদ্ধান্তই হোক, নৌকা ভোটারদের কৌশল ও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা