নিউইয়র্ক স্টেটের আইনে বলা আছে—বিচারকের স্বাক্ষরযুক্ত আদেশ ছাড়া কোনো অপ্রমাণিত অভিবাসী কিংবা অন্য কাউকে রাষ্ট্রীয় বা স্থানীয় আদালতের ভেতরে বা আশপাশে গ্রেপ্তার করতে পারবে না আইস বা অন্য কোনো ফেডারেল সংস্থা। ট্রাম্প প্রশাসন এ বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে এ বছরের শুরুতে ফেডারেল আদালতে যায়।
এই সপ্তাহে সেই মামলায় আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছেন। ফলে অভিবাসী অধিকারকর্মী এবং বহু আইনপ্রণেতা এটিকে বড় জয় হিসেবে দেখছেন, যদিও বাস্তবে এর সঙ্গে আরও জটিলতা রয়েছে।
সোমবার রাতে প্রকাশিত রায়কে স্বাগত জানিয়ে মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক–এর সহ–নির্বাহী পরিচালক সিয়েনা ফঁতেন বলেন, “সরকার যে পিওসিএ আইন বাতিল করতে চেয়েছিল, আদালতের তা প্রত্যাখ্যান করা আমাদের জন্য বড় স্বস্তি।” নিউইয়র্ক স্টেট এবং সিটি—দুই স্থানেই আদালতের ভেতরে কাউকে ধরে নেওয়া থেকে ফেডারেল এজেন্টদের বিরত রাখতেই Protect Our Courts Act (POCA) প্রণীত হয়।
স্টেট সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির চেয়ারম্যান ব্র্যাড হয়েলম্যান-সিগাল বলেন, আইনটি শুধু আদালতের ভেতরে নয়, আদালতের পথে থাকা অভিবাসীদেরও সুরক্ষা দেয়। তার ভাষায়, “কোনো আইস এজেন্ট যদি আদালতে যাওয়ার পথে কোনো অনথিভুক্ত অভিবাসীকে ধরতে চায়, বিচারকের পরোয়ানা ছাড়া নিউইয়র্কের আইন সেই গ্রেপ্তার ঠেকায়।”
তবে এই আইনের ক্ষমতা স্টেট ও সিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফেডারেল আদালতে এর প্রয়োগ নেই, আর এ বছর বহু গ্রেপ্তারই হয়েছে ফেডারেল ভবনগুলোতে—আইস, বর্ডার পেট্রোল ও অন্যান্য এজেন্সির মাধ্যমে।
ফেডারেল নীতিতে বুধবার আরও দুটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় হোয়াইট হাউস। প্রথমটি স্ন্যাপ ও মেডিকেডের মতো ফেডারেল সুবিধা নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে—যেসব অ-নাগরিক এসব সুবিধা নেন, তাদের বৈধ আবাসিক মর্যাদা বা দেশে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হতে পারে।
ইউনিয়ন স্কোয়ারের কাছে সুবিধাভোগীদের কেউ অন-রেকর্ড কথা বলতে চাননি। তবে এলাকার বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে প্রখর প্রতিক্রিয়া জানান। ব্রুকলিনের বাসিন্দা ক্রিস পাওয়ার্স বলেন, “কিছু একটা করা দরকার, তবে এটা সমাধান কিনা, জানি না।” আরেকজন, কলবার্ট, বলেন, “অনেকেই কর দেন, বৈধভাবে থাকছেন—তাদের সুবিধা কাটা হলে সেটা ভয়াবহ। কিন্তু অবাক হই না।”
অভিবাসন নিয়ে আরেকটি নতুন ঘোষণা আসে মঙ্গলবার। বর্ডার সিজার টম হোম্যান জানান, তিনি নিউইয়র্কে আইস এজেন্টের সংখ্যা বাড়াতে চান।
এ খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানী। পিক্স১১–কে তিনি বলেন, “মানুষ আতঙ্কে আছে।” তার মতে, শহরের প্রতিটি বাসিন্দা ও আগন্তুকই সমান সুরক্ষা পাওয়ার দাবিদার। “বিশ্বের নানা জায়গা থেকে মানুষ এই শহরে আসে,” বলেন মামদানী, “আর আমরা প্রতিটি নিউইয়র্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।”
ফেডারেল আদালতে প্রশাসনের এই আইনি পরাজয়ের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে।