অবৈধভাবে আমদানিকৃত, চোরাচালানকৃত ও ক্লোন করা মোবাইল ফোন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দেশে প্রবেশ করা বিপুলসংখ্যক অবৈধ ফোন নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে ভুল সিম রেজিস্ট্রেশন ও নানা সিম–সংক্রান্ত অপরাধ, জুয়ার লিংক ও এমএলএম প্রতারণার বাল্ক এসএমএস পাঠানো, অনুমোদনবিহীন এমএফএস রেজিস্ট্রেশন, অনলাইন জুয়া, স্ক্যামিং, অবৈধ ক্লোন ফোন ব্যবহার, পেটেন্ট ও প্রযুক্তিগত রয়্যালটির অর্থ পরিশোধ না করা, শুল্ক ও আয়কর ফাঁকি, ভারত–চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে ফোন আনা, সীমান্ত চোরাচালান, বিমানবন্দরের লাগেজ পার্টির সক্রিয়তা এবং দেশীয় মোবাইল শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি।
তার ভাষায়, এসব অপরাধ নাগরিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে ঝুঁকি তৈরি করছে। বিষয়টি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিডা, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকিং খাত, বিএফআইইউ ও এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে আসছে। মোবাইল ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেটখাতে শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্যও এটি জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফয়েজ আহমদ তায়্যব জানান, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত ফোন আনায় দেশে অবৈধ ডাম্পিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তা মেনে নেবে না। মোবাইল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদক বা বৈধ আমদানিকারকদের ফোন বিক্রি করলে কেউ বাধার মুখে পড়বে না; বরং সৎ ব্যবসায় সরকার সহযোগিতা করবে। তিনি দাবি করেন, একটি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে লক্ষাধিক ক্লোন ফোন তৈরি করে দেশে আনার প্রবণতা উদ্বেগজনক। এনইআইআর (NEIR) চালু হলে এ ধরনের অনিয়ম আর সম্ভব হবে না বলেই মাফিয়া চক্র এর বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে। লাগেজ পার্টি, ভুয়া এইচএস কোড, কেজি–দরে আমদানি, সীমান্ত চোরাচালানসহ এসব ডিজিটাল অপরাধের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে বিটিআরসিতে আলোচনা হয়েছে এবং এনবিআরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে দ্রুতই এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হবে। দেশীয় উৎপাদিত মোবাইল ফোনের দাম কমাতে বিটিআরসির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় যে পদক্ষেপ প্রয়োজন, সরকার তা নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিদেশ থেকে বৈধভাবে আনা ফোনের রেজিস্ট্রেশন সহজ করতে বিটিআরসি কাজ করছে। ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বরের আগে যেসব ফোন সক্রিয় হবে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হিসেবে নিবন্ধিত করা হবে। ফয়েজ আহমদ তায়্যব বলেন, ভারতসহ অনেক দেশেই গণহারে বিদেশি ফোন প্রবেশের সুযোগ নেই। অবৈধ ফোন এনে উচ্চমূল্যের সেট সস্তায় বিক্রি করতে হবে—এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয় এবং রেগুলেটর হিসেবে বিটিআরসি তা মানতে বাধ্য নয়।