সমাজে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে একই অপরাধের জন্য সাধারণ মানুষের যেমন বিচার হবে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর অপরাধের বিচারও হবে ঠিক একইভাবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না—এমন শাসনব্যবস্থা কায়েম করা গেলে প্রথম দিন থেকেই দেশের ৯০ শতাংশ অপরাধ সমাজ থেকে বিলীন হয়ে যাবে।
শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইনসাফের শাসন ও আইনি সমতা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই যেখানে আইনের প্রয়োগ হবে সবার জন্য সমান। এখানে কারো জন্য সোনার তলোয়ার আর কারো জন্য ইস্পাতের তলোয়ার হবে না। অপরাধীকে সংশোধন করার সুযোগ দেওয়া হবে, তবে সংশোধন না হলে তাকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। ন্যায়ের কথা এবং ইনসাফপূর্ণ শাসনের কথা আমরা কেবল মুখে বলছি না, এটি আমাদের লক্ষ্য। এই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছালে অপরাধীরা অপরাধ করতে সাহস পাবে না।
সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন ও যমুনার স্থায়ী বাঁধ
সিরাজগঞ্জ জেলাকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পিছিয়ে পড়া জনপদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এখানকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার তাদের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ করে যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী যমুনায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে এ অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষা করা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান
আগামী ১২ তারিখের গণভোটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জামায়াতের আমির বলেন, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো আবু সাঈদ থেকে শুরু করে ওসমান হাদি এবং ১৪০০ শহীদের রক্তঋণ পরিশোধের শপথ নেওয়া। তিনি বলেন, আমরা শহীদদের কথা দিচ্ছি—আপনাদের হত্যার বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। একটি নতুন সোনার দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জনসভাটি এক পর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত ও সংযত থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুখে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।