এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবার ২০২৫, ০৪:২৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

অটোপেন বিতর্কে বাইডেনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাউস কমিটি

অটোপেন বিতর্কে বাইডেনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাউস কমিটি

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন হাউস ওভারসাইট কমিটি। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাইডেন এতটাই মানসিকভাবে দুর্বল ছিলেন যে, অটোপেন ব্যবহার করে তাঁর নামে স্বাক্ষরিত ক্ষমা ও কমিউটেশন আদেশগুলোর বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন কি না, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।

কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে এক চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, বাইডেনের নামে অটোপেনে স্বাক্ষরিত সব নির্বাহী সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করা উচিত এবং বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগকে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

একই সঙ্গে তারা ৯৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে—বাইডেনের মানসিক অবনতিকে গোপন রাখা হয়েছে এবং অনেক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাইডেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সব সিদ্ধান্ত তিনিই নিয়েছিলেন এবং রিপাবলিকানদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া এই তদন্তকে ‘নিরর্থক রাজনৈতিক প্রচারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষায়, হোয়াইট হাউসের প্রত্যেক কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে বাইডেন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং প্রতিটি নির্বাহী আদেশ ও ক্ষমা তাঁর অনুমোদনেই হয়েছে।

তবে রিপাবলিকান কমিটির অভিযোগ, বাইডেন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দুর্বল ও অগোছালো। বিশেষ করে ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগুলো বহুস্তরে ঘুরে অটোপেনের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্টের সরাসরি অনুমোদনের লিখিত রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন হোয়াইট হাউস স্টাফ সেক্রেটারি নীরা ট্যান্ডেনও জানতেন না, সিদ্ধান্তগ্রহণের বইটি কখন প্রেসিডেন্টের কাছে যায় এবং কখন ফেরত আসে। আর সাবেক চিফ অব স্টাফ রন ক্লেইন বলেন, বাইডেন কিছু সিদ্ধান্ত মৌখিকভাবে নিতেন, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে ক্ষমা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

কমিটি বলেছে, বাইডেনের হোয়াইট হাউসে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এতটাই দুর্বল ছিল যে, কোন সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। এ কারণে অটোপেনে স্বাক্ষরিত অনেক সিদ্ধান্তের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ।

বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ৪,২৪৫ জনকে ক্ষমা ও সাজা হ্রাস দেন—যা মার্কিন ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বিতর্কিত ছিল তাঁর পরিবারের সদস্য ও কিছু ট্রাম্প-বিরোধী ব্যক্তিকে আগাম ক্ষমা দেওয়া। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও প্রেসিডেন্টের দেওয়া ক্ষমা পরবর্তীতে বাতিল করার কোনো দৃষ্টান্ত নেই।

কমিটি বাইডেনের তিন সাবেক সহকারী—ডা. কেভিন ও’কনর, অ্যান্থনি বার্নাল ও অ্যানি টমাসিনি—এর বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তারা কমিটির প্রশ্নের জবাবে ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ প্রয়োগ করে নীরব ছিলেন।

বাইডেনের মুখপাত্র বলেছেন, এই তদন্ত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রেসিডেন্ট তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, এখন সময় রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, বরং সরকার পুনরায় সচল করার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোপেনের ব্যবহার মার্কিন আইনে বৈধ, যদি প্রেসিডেন্ট নিজে সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তাই বাইডেনের সিদ্ধান্ত বাতিল করা বা পুনর্বিবেচনা করা হবে একটি জটিল ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

তথ্যসূত্রঃ সিএনএন